Social Bar

'মেধাবীদের দেশ ত্যাগ ও নের্তৃত্বের সংকট' - ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণঃ

  

 'মেধাবীদের দেশ ত্যাগ ও নের্তৃত্বের সংকট' - ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণঃ

আমি ব্যাক্তিগতভাবে নৈরাশ্ববাদীদের অন্তর্ভূক্ত নই,কিন্তু মাঝে-মাঝে হতাশ হয়ে পড়ি,-যখন দেখি, ডঃ ফখরুল ইসলাম ও নুরুল হুদাদের মতো শত-সহস্র মেধাবী  ভাই-বোনদেরকে উৎপীড়ন করে দেশ ছাড়া  করা হয়।পরিতাপের বিষয়,আমরা আমাদের এই মেধাবী প্রজন্মদের ধরে রাখতে পারি না।ক্ষোভ ,দুঃখ আর হতাশা নিয়ে তারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। প্রিয় পাঠক,এই Article টি লেখার মূল কারণ "ভালো স্টুডেন্টরা কেনো দেশ ছেড়ে পালায়' শিরোনামেরএকটি ভিডিও। ভিডিওটি দেখার পর ব্যক্তিগত দায়বোধ থেকেই আমার মনে হয়েছে, অন্ততঃ কিছু একটা লেখা উচিত-যাতে স্পষ্ট হয়,আসলে আমরা যাচ্ছি কোথায়? আমরা আছি-ই-বা-কোথায় ? ভাবা যায়,মানসিক পীড়নের কি অবস্থায় পৌঁছলে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মেধাবী  ছাত্র,(যিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক Gold Medal-এ সম্মানিত) সংবাদ সম্মেলন করে তার Gold Medal ও অন্যান্য সনদ প্রত্যাখ্যান করেন।

দেশের তরুণ সমাজসহ অন্য সকলের কর্মসংস্থান/চাকরী প্রাপ্তির কালিমালিপ্ত চিত্রটি অভিজ্ঞ,অনভিজ্ঞসহ সকল মহলের নিকটই সুবিদিত। নতুন করে বলার কিছু নেই।এদেশে চাকরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যোগ্যদেরকে প্রাধান্য  দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ,তার কোনো ইতিহাস যদি থাকে তবে তা' খুবই Surprising বিষয়। ঘুষ, স্বজন -প্রীতি, প্রভাবশীল ব্যক্তিদের অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপ, অন্ধ দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন ইত্যাদি-ই হচ্ছে  আমাদের দেশে চাকরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একমাত্র এবং একমাত্র যোগ্যতা। শিক্ষা, দক্ষতাও Quality কিচ্ছু নয়।

চাকরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্যের এই ঘৃণ্য ব্যবস্থা দীর্ঘকাল যাবৎ চালু থাকায় এবং তা প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করায় মেধাবীদের মধ্যে নিগৃহীত হয়ে যারা দেশ ছেড়েছেন এবং ভবিষ্যতে ছাড়বেন, সন্দেহ নেই তারা আরও Better chance পাবেন,তাদের বিকশিত হবার সম্ভাবনা আরও অধিক উজ্জ্বল এবং উম্মুক্ত। কিন্তু আমাদের দেশটার কি হবে, আমরা যে ক্রমশঃ মেধাশুণ্য জাতিতে পরিণত হতে চলেছি। যার অনিবার্য ফল, প্রায় সর্বক্ষেত্রে অযোগ্যদের নের্তৃত্ব।একটা দেশের এক হাজার গুণী মানুষ মারা গেলে যে ক্ষতি সাধিত হয়, তার চেয়ে অধিক ক্ষতি হয় একজন অযোগ্য লোককে কোনো প্রতিষ্ঠানের নের্তৃত্বের আসনে বসানো হলে। হায়! তাহলে বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে বেচে থাকার জন্য, বিশ্ব চ্যালেঞ্জগুলো কি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে  সক্ষম হবো?

ডঃ ফখরুল ইসলাম এর দেশ ত্যাগ সহ এ'রকম অগ্রহণযোগ্য নিন্দনীয় ঘটণা তো অহরহই এদেশে ঘটছে, কয়টার খবর আর প্রচার মাধ্যমে আসে। তাহলে ভবিষ্যতে কি অযোগ্যরাই আমাদের দেশ পরিচালনা করবে! ডঃ ফখরুল ইসলামের মতো অসংখ্য তরুণদের এভাবে দেশ থেকে  তাড়িয়ে আমরা কি মেধাপাচার করতেই থাকবো ।এই মেধা পাচারের  শেষ কোথায়? আসলে আমরা কোথায় তলিয়ে যাচ্ছি তা'কি আমরা বুঝতে পারছি ? আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের ভবিষৎ তাহলে কোথায়?। মেধাবী  প্রজন্মরা কি আর তাহলে ভবিষ্যতে দেশে থাকবে না? আহা! একটা জাতির অধঃপতন  কি পর্যায়ে পৌঁছলে এভাবে অবলীলায় দেশকে মেধশুণ্য করার চক্রান্ত চলতে পারে। যারা এ হেন চক্রান্ত ও মানুষের প্রতি  জুলম- নির্যাতনের এইরূপ ন্যাক্কারজনক ঘটণাগুলোর  জন্য অভিযুক্ত, আমরা জানি না -তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা। হলে নিঃশন্দেহে তা' জাতির জন্যে স্বস্তিদায়কও মঙ্গলজনক।আমরা আশাবাদী ইতিবাচক নিশ্চয়ই কিছু হবে।

"ভালো স্টুডেন্টরা কেনো দেশ ছেড়ে পালায়'  শিরোনামের এই ভিডিওটিক দেখে আমি যা' লিখছি তা' বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠির প্রতি বিদ্ধেষ -প্রসূত ধারণা থেকে নয় বরং ব্যক্তিগত দায়বোধ এবং উপলব্দি থেকে এইজন্য লিখছি যে, আমি চাই যারাই ভিডিওটি দেখবেন, তারা যেন হতাশ না হয়ে এমন একটি দেশ তৈরি করার তাড়না অনুভব করেন, যেথায় মানুষের freedom of expression, freedom of rights, স্বততঃ ধারায় বাধাহীন ভাবে বিকোশিত হবে। নিয়োগ বাণিজ্যের অশ্লীল আবর্তের মধ্যে ঘুরপাক খেয়ে আমাদের তরুণদের জীবন যেথায় আর নষ্ট হবে না। যেথায় আমাদের  অক্ষমতা ও অযোগ্যতার কারণে আর কোনো মেধাবীকে এভাবে আর দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে হবে না।

জানি ,যত বড় কথাই বলি, যত বড় -বড় উদাহরণই দেই না কেনো -অধঃপতনের যে স্তরে আমরা এসে পৌঁছেছি সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া খুব সহজ বিষয় নয়। বিশেষ করে মানুষ নিজেই যখন স্রষ্টার শ্রেষ্ট সৃষ্টি  ‘মানুষের’ প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আমার ভাবতে অবাক লাগে, ডঃফখরুল ইসলাম সহ ভিডিওতে প্রদত্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মেধাবী মানুষটিকে যারা উৎপীড়ন করলেন, তারা নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত জীবনে কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী এবং সেই ধর্মবোধ থেকে ধর্ম-চর্চা ও করেন-মসজিদে যান, মন্দিরে যান, রোজা রাখেন,নমাজ পড়েন, ঈদ্গাহে যান তীর্ভ্রথমণ করেন।হায়রে ধর্মচর্চা! প্রাণের সংঙ্গে সংযোগবিহীন আবৃত্তি-ই যার ‘ সার’! শুধু অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, জীবনের সাথে ,জীবনের কর্মের সাথে এই ধর্মচর্চার কোনো সম্পর্ক নেই। মাঝে-মাঝে অবাক হয়ে ভাবি, যে দেশের মানুষ এতো ধর্মপ্রাণ (তথাকথিত) সে দেশে ঘুষ-সংস্কৃতি চালু থাকে কি করে? ঘুষ-প্রথা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় কিভাবে? যে দেশে ঘুষ ছাড়া কোনো চাকরী হয় না,মানুষের কোনো কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা ও করা যায় না- ঘুষ ছাড়া,ঘুষ দ্বারা যেখানেহত্যা,খুন,গুম,অপহরন,জিঘাংসা,লুন্ঠন,রাহাজানি,ধর্ষণ,চৌযবৃত্তি ,দস্যুতাসহ সকল প্রকার অন্যায় -অপকর্ম সিদ্ধ হয়,সে দেশে তো ন্যয়-পরায়ণতা ও মানুষের ন্যায্য বিচার পাওয়ার কোনো নূন্যতম সুযোগও থাকার কথা নয়।আর যে দেশে,যে সমাজে 'ন্যয়পরায়ণতা' বলতে কিচ্ছু নেই, সেই দেশ,সেই সমাজতো বর্বরদের অপরাধের অভয়ারণ্য মাত্র।এরকম বর্বদের নমায, রোজা ,হজ্ব, যাকাত, তীর্থভ্রমণ এর মতো প্রার্থনা/এবাদতসমূহ কেনো সিদ্ধ হবে। কেনো আল্লাহ/ স্রষ্টা ওগুলো কবুল করতে যাবেন। ঘুষ নামক ‘বিষ’ খেয়ে যারা আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষকে কষ্ট দেন,মানুষের অধিকার হরণ করে নেন - এসব আত্বসম্মান বিববর্জিত ব্যক্তিত্বহীনদের (এদের ছিটে-ফুটো ও আত্বসম্মানবোধ নেই,কারণ অন্যের হক/জিনিস গলাধঃকরন করতে এদের রুচিতেএকটু ওবাধে না) নমায-রোজায় আল্লার কি প্রয়োজন ?এ'রূপ প্রার্থনাকারী ব্যক্তিগণ(আল্লায়/ স্রষ্টায় যারা  বিশ্বাস করেন) কিভাবে আত্বমর্যাদাবোধশূণ্য ব্যক্তিত্বহীন হবেন? অসম্ভব স্রষ্টায় বিশ্বাসকারী কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিত্বশূণ্য হতে পারেন না।বস্তুতঃ ব্যক্তিত্বশূণ্যদের প্রার্থনা/ ইবাদত তামাশা ভিন্ন কিছু নয়। 

আমি বুঝিনা,যে দেশের মানুষগুলো এতো ধর্ম-কর্ম করেন,(আল্লাহ,/স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন) সে দেশের মানুষগুলো কিভাবে আত্মসম্মান-বোধ বিসর্জন দিয়ে,স্রেফ স্বীয়-স্বার্থে প্রলুব্ধ হয়ে অন্ধ দলীয়- আনুগত্য প্রদর্শন করেন এবং এই দলীয় আনুগত্য অন্যের উপর চাপাবার জন্য নানা মন্দ চক্রন্তে লিপ্ত থেকে মানুষের উপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালান।যারা এই কাজগুলো করেন তারা  কি সবাই নাস্তিক? পৃথিবীর এতো অশান্তি,এতো যুদ্ধ-বিগ্রহ,মানুষে-মানুষে এতো বিভাজন-বৈষম্য এর  সব কিছুই কি নাস্তিক্যদের সৃষ্টি। বিশ্বের কথা বাদ, দেশের মানুষের নীতি-নৈতিকতা,মূল্যবোধ-মানবিকতার যে নোংরা চিত্র আমাদের মাঝে দৃশ্যমান, তাও তো ঐ নাস্তিক্যবাদেরই ফসল! আহা! আস্তিক্যবাদীদের আত্নমূল্যায়নের ভান্ডার যে শূণ্য! তা না হলে স্পষ্ট  হতো, আস্তিক্যক্যবাদের মধ্যেই যে নাস্তিক্যবাদের বসবাস। মূলতঃ আমরা যারা স্রষ্টায় বিশ্বাস করি এবংতা প্রচার করে আত্বতৃপ্তির ঢেঁকুর উঠাই,আমাদের এই বিশ্বাস নির্ভেজাল নয় (ব্যতিক্রম কিছুবাদে)।কারণ স্রষ্টায় বিশ্বাস করলে আচরন তার বিপরীত হতে পারতো না। আর আমার বিশ্বাস,ভেজাল মিশ্রিত ‘বিশ্বাস’ কোনো ‘বিশ্বাস’   নয় -এটা স্রষ্টার সাথে তামাশার সামিল। ভেজাল মিশ্রিত খাবার খাওয়ার চাইতে পেটকে শূণ্য রাখা যেমন স্বাস্থ্যপ্রদ, ঠিক তেমনি,যে বিশ্বাস স্রষ্টার সাথে তামাশার সামিল,যে বিশ্বাস বর্জন করে প্রকৃত  ‘বিশ্বাসী’ হওয়াই উচিত/সঙ্গত। কেনো আমি একথাগুলো বলছি, প্রিয় পাঠক ,লক্ষ্য করুন- যে ‘বিশ্বাস’ স্রষ্টার সাথে তামাশার সামিল,অর্থাৎভেজাল মিশ্রিত  ‘বিশ্বাস’,সে ‘বিশ্বাস’ অবলম্বনকারীদেরকেই আল্লাহ্‌ পাক পবিত্র কোরান শরীফে ‘মুনাফেক’ নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ,পাক মুনাফেকদের জন্যই সর্বনিকৃষ্টতম জাহান্নামের কথা ঘোষণা করেছেন, অবিশ্বাসকারীদের জন্য নয়। অবিশ্বাসীরা জাহান্নামে যাবে সত্য, কিন্তু সর্বনিকৃষ্টতম জাহান্নামে নয়।কারণ স্পষ্ট,অবিশ্বাসীরা তাদের নিজস্ব যুক্তি দ্বারা আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করে না সত্য, কিন্তু তারা ভেজাল মিশ্রিত বিশ্বাস অবলম্বনকারীদের তথা মুনাফেকদের মতো আল্লাহর সাথে বিশ্বাসের নামে ভন্ডামী করে না।বস্তুতঃ আপনি কাউকে মানবেন, কি মানবেন না না সেটা আপনার নিজস্ব ব্যাপার,সেটা আপনি করতেই পারেন কিন্তু তাই বলে আপনি তাকে অসম্মান করতে পারেন না। মুনাফেকরা অর্থাৎ ভন্ডরা আল্লাহ্‌র সাথে বিশ্বাসের নামে মূলতঃ আল্লাহ্‌কে অসম্মান (আল্লাহ্‌ মাফ করুন)করেন।

প্রচলিত অর্থে এবাদত/প্রার্থনা বলতে মানুষ শুধুমাত্র নমায,রোজা, হজ্জ্ব,যাকাত,তীর্থভ্রমণ ইত্যাদিকেই বুঝায় কিন্তু স্রষ্টার এবাদত/ প্রার্থনা বলতে আমরা শুধুমাত্র ঐগুলোকেই বুঝিনা,আমরা ঐগুলোর সাথে-সাথে যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে, স্রষ্টার সৃষ্টির সেবা করা এবং স্রষ্টার কোনো সৃষ্টি কষ্ট পায়- এমন সকল প্রকার কাজ হতে নিজেকে বিরত রাখা এবং এটাই হচ্ছে  একজন মানুষের পক্ষে স্রষ্টার এবাদত করার নূন্যতম যোগ্যতা। কারণ আল্লাহ্‌র সৃষ্টিকে কষ্ট দিয়ে যারা আল্লাহ্‌র এবাদত/ প্রার্থনা (নমায,রোজা, হজ্জ্ব যাকাত ইত্যাদি) করতে যায় তারা মুলতঃ মূর্খ। মূর্খদের আল্লাহ্‌র এবাদত করার  আবশ্যকতা কি ? মহান স্রষ্টার এবাদত/প্রার্থনা করার জন্য অবশ্যই  মনুষ্যের কিছু নূন্যতম যোগ্যতা লাগবে। আমরা সেই নূন্যতম যোগ্যতাটাকেই বলি স্রষ্টার কোনো সৃষ্টিকে কষ্ট না দেয়া।


একদা রাতে নবীজী ঘুম থেকে উঠে দেখেন,একটি বিড়াল তাঁর চাদরে শুয়ে ঘুমোচ্ছে। চাদরের যে অংশে বিড়ালটি ঘুমিয়েছিল, নবীজী সেই অংশটুকু কেটে অবশিষ্ট অংশটুকু দিয়ে তিনি নমাজ আদায় করলেন।বিড়ালটিকে ঘুম থেকে উঠিয়ে জাগ্রত হওয়ার কষ্টটুকু দিলেন না।এই হচ্ছে একটি ইতর প্রানীর প্রতি আমাদের নবীজীর দরদবোধ। আর আমরা আল্লাহ্‌র সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি মানুষের হক নষ্ট করে,মানুষকে কষ্ট দিয়ে নমাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত করে উচ্চস্বরে চেচাচ্ছি-এগুলোই শ্রেষ্ঠ ইবাদত, এগুলো ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবে না।সত্যি কথা, এগুলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত -কোনো সন্দেহ নেই  -কিন্তু এগুলো করতে হলে যে,মানুষের যে কিছু নূন্যতম যোগ্যতা লাগবে। সেই নূন্যতম যোগ্যতার একটি উদাহরণ ছিল বিড়ালের ঘটনাটি।অনেকেই ভাবছেন, বিড়ালের প্রতি নবীজীর ঐ দরদবোধ অসাধারণ কোনো বিষয় ছিল।মোটেওনা।এটা ছিল খুবই সাধারণ একটা মানবীয় বিষয়। যেই-ই মনুষ্য নাম ধারণ করেছে,তার মধ্যে ঐ সাধারণ মানবীয় গুণাবলী থাকতেই হবে -যেটা নমাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত এর মতো উচু পর্যায়ের এবাদত করার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা।তো ভাবুন, আমরা এই সাধারণ গুণগুলোকেই কতো উঁচুপর্যায়ের মহত্বতম গুণ মনে করি। একটি বিড়ালকে কষ্ট না দেওয়া -এটা কোনো নবী কেন একজন সাধারণ মানুষের জন্যও কোনো অসাধারণ গুণ বা বৈশিষ্ট্য নয় । একটি ইতর প্রানীর দরদের প্রতি যদি এই-ই হয় সত্যিকারের দৃষ্টিভঙ্গী- তাহলে আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি  মানুষের প্রতি ‘দরদ ও ভালোবাসার দৃষ্টিভঙ্গী’ আর ও কতো সাধারণ ও কাঙ্খিত বিষয়, তাই নয় কি? (যেহেতু মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত)  সেই সাধারণ ও কাঙ্খিত দরদ ও মানবিকতাইত মানুষ পায় না,বরংউল্টো, মানুষ তার নিজ স্বার্থে,মানুষের ক্ষতির জন্য এমন হেনো কাজ নেই যে,সে করে না। কারণ এগুলোতে তার স্বার্থ রক্ষিত হয়। হায় মুসলমান! শুধু মুখে নমাজ, রোজা ,হজ্জ্ব যাকাতের মতো এবাদতের উচ্চ মাহাত্ব বর্ণনার স্লোগান -জীবনের কর্মে নয়,কর্তব্য পালনে তা 'নয়। বস্তুতঃ যেই-ই আল্লাহ্‌পাকের এবাদত তথা নমাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত ইত্য্যাদি করবে সে অন্ততঃ আল্লাহ্‌র কোনো সৃষ্টির( প্রিয়তম সৃষ্টির তো নয়-ই) কোনোরূপ অমঙ্গল বা ক্ষতি সাধন করবে  বা ক্ষতির কথা চিন্তা ও করবে না,-এই যোগ্যতাটা অর্জন করে সে নেবেই। কিন্তু যে ব্যক্তি  স্রষ্টার সৃষ্টিকে কষ্ট দিয়ে,তার অধিকার নষ্ট করে অনবরত রোজা ,নমাজ, হজ্জ্ব, যাকাত করে বেড়ায়, কিন্তু তার মন একবারের জন্যও পীড়িত হয় না যে,সে জীবনভর স্রষ্টার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিকে কষ্ট দিয়ে স্রষ্টার নাফরমানির কাজ করেছে-তার ঐ সব নমাজ, রোজা ,হজ্জ্ব, যাকাতের মতো উচ্চস্তরের এবাদতগুলোর কি মূল্য আছে আল্লাহ্‌র কাছে।  

আচ্ছা, মানুষ তো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। স্রেফ নিজের মন্দ স্বার্থ চরিতার্থের জন্য একজন মানুষ যখন আল্লাহ্‌র সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি অপর একজন মানুষকে (তার সর্বপ্রকার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও) চাকরীর নামে বেকায়দায় ফেলে তার থেকে অতিরিক্ত অর্থ/ঘুষ আদায় করে তাকে কষ্ট দেয়,তার দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার সর্বস্ব কেড়ে নেয়,এবং তার অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করে মসজিদ/ মন্দিরে যেয়ে অথবা একাকী নমাজ রোজা,পূজা অর্চনা,উপবাস করে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে,তথন এগুলোকে আমরা কি বলবো ? প্রার্থনার নামে আল্লাহর সাথে এগুলো শ্রেষ্ঠ তামাশা নয় কি? এগুলো কি প্রকৃত বিশ্বাসীদের কাজ ? না ভেজাল মিশ্রিত বিশ্বাসীদের তথা মুনাফেকদের কাজ।আসলে বিষয়গুলো বুঝতে হলে একজন মানুষকে জীবনবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিত্ববান - বিশ্বাসী মানুষ হতেই হবে । যার বিশ্বাসে ঘাটতি আছে ,সে ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন নয়,অথবা বলা চলে ব্যক্তিত্বসম্পন্নদের বিশ্বাসে ঘাটতি থাকে না,অর্থাৎ তারা মুনাফেক হয় না। সুতরাং এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট,মুনাফেকরা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতে পারে না। আর কোনো ব্যক্তিত্ববান, আত্বমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মানুষের পক্ষে  আল্লাহ্‌র কোনো শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে কষ্ট দেয়া ,তার অধিকার হরণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তিত্ববান মানুষের পক্ষে তথা বিশ্বাসী মানুষের পক্ষে উপরে বর্ণিত ঐরূপ ঘৃণ্য কাজগুলো করা সম্ভব কি? হায়রে মানুষ! মনুষ্যদের কি হলো? আল্লাহ্‌কে/স্রষ্টাকে বোকা (আল্লাহ্‌ মাফ করুন) ভেবে নিয়ে প্রার্থনা/এবাদতের নামে এভাবে তোষামোদী শুরো করে দিলো! তোষামোদে আল্লাহ্‌কে ভুলানো যাবে? মানুষকে যাবে, -আল্লাহ্‌কে নয়। হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমরা যেনো এবাদতের নামে আপনার সাথে এইরূপ ধৃষ্টতাপূর্ণ বেয়াদপি না করি।

 যেদিন মানুষ স্রষ্টার/আল্লাহ্‌র প্রার্থনা করার জন্য উপরে বর্ণিত নূন্যতম যোগ্যতাগুলো অর্জন করবে সেদিন মানুষকে রক্ষা করার জন্য আর কোনো দেশে আর দুদক, দুপ্রক এর মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে না। মনুষ্যকে শুধু আত্বমর্যাদাবোধে বলিয়ান উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠলেই হবে।আর ঐ উচ্চ- ব্যক্তিত্বসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের অন্তরেই থাকবে দুদক ও দুপ্রক এর মতো এক-একটি প্রতিষ্ঠান।কিন্তু ঐ নূন্যতম যোগ্যতা অর্জন না করে মানুষ যদি কেয়ামত পর্যন্ত ও এবাদত/প্রার্থনার নামে এরূপ (প্রকৃত নয়)নমায,রোজা,পূজা–অর্চনা করে অবোধ-অর্বাচীনদের মতো  আত্বতৃপ্তির ঢেঁকুর উঠায়,তাহলে নিশ্চিত বলা যায়,কোনো ধর্মগ্রন্থ, কোনো স্বর্গীয় শাসন,কোনো প্রতিষ্ঠান,কোনো আইন তাদেরকে আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। 

শুভবুদ্ধি আমাদের মধ্যে জাগ্রত হউক-  প্রার্থনা করি।


 

কোন মন্তব্য নেই

konradlew থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.